সোনাগাজীতে ১২টি স্লুইসগেট সংস্কারের অভাবে অকেজো

২৮৭    0

CON-00003215

সোনাগাজী উপজেলায় ১২টি স্লুইসগেট সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষায় পুরো উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফেনী সদর থেকে ২০ কি.মি. দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে সাগরস্নাত সোনাগাজী উপজেলার অবস্থান। পূর্ব দিকে কালীদহ ও বড় ফেনী নদী, পশ্চিমে উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ছোট ফেনী নদী।

এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে রক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশন করার লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন সরকার উপজেলা ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলে ১২টি স্লুইস গেট নির্মাণ করে। ২০০২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালি-অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের অভাবে ২০ গেট বিশিষ্ট কাজীর হাট স্লুইস গেটটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কাজীর হাট সু্লুইস গেটটি বিলীন হওয়ার কারণে ৮ই মার্চ ২০০৬ সালে কাজীর হাট স্লুইস গেটের ২০ কি.মি. পেছনে ছোটফেনী নদীর মোহনায় মুছাপুর নামক স্থানে ২৩ ভেল্টের একটি ক্লোজার ড্যাম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। উক্ত ক্লোজার ড্যামটি ২ বছরের মধ্যে নির্মাণ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে মুছাপুর ক্লোজার ড্যামটি নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কৃষকের ফসলি জমি, আমনের বীজতলা, মাছের ঘেরসহ বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ বালাইয়ের সৃষ্টি হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের ১০নং স্লুইস গেটসংলগ্ন কৃষক আবুল কাসেম জানান, এ স্লুইস গেট দিয়ে চরসাহাভিখারী গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের পানি বর্ষাকালে নিষ্কাশন হতো। গত ২০ বছর ধরে স্লুইস গেটটি অকেজো থাকার কারণে ইউনিয়নের গ্রামগুলোর পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। যার ফলে গ্রামগুলোয় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, আমরা আগে বছরে দুটি ফসল উৎপাদন করলেও এখন একটি ফসলও উৎপাদন করতে পারি না। চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত হয় ৭নং স্লুইস গেট।

সরজমিন গিয়ে জানা যায়, স্লুইস গেটটি নির্মাণ করার পর কোনো মেরামত বা সংস্কার না করার কারণে জোয়ারের লোনা পানি স্লুইস গেট দিয়ে গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আমিরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত ১নং স্লুইস গেটটিরও একই অবস্থা। জোয়ারের লোনা পানির প্রভাবে এলাকার দালানকোঠাসহ মসজিদ, মক্তব ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে খসে পড়ছে। উপজেলার সব কটি স্লুইস গেটের একই অবস্থা হওয়ায় কৃষক ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে ফসল উৎপাদন ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে শঙ্কিত থাকেন।

তাদের অনুরোধ অকেজো স্লুইস গেটগুলোর সংস্কার কাজগুলো যেন বর্ষা মৌসুম আসার আগেই করা হয়। চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল ও স্লুইস গেটগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম জানান, দ্রুত স্লুইস গেটগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ফেনী পানি উন্নয়ন কর্মকর্তা আফছার হোসেন জানান, আগামী অর্থ বছরে স্লুইস গেটগুলো মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হবে।

Leave A Reply