সোনাগাজীতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি অধিগ্রহণ শুরু

৪৮৯    0

sonagazi economic zone

ফেনী: চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য সোনাগাজী অংশে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে।

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে (বঙ্গোপসাগর, ছোট ও বড় ফেনী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চরে) এ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হতে যাচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সোমবার (৮ আগস্ট) শুরু হয়েছে মাঠ জরিপের কাজ।

প্রথম দফায় আমিরাবাদ ও সদর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে সাত হাজার একর এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিল্প স্থাপনের উপযোগী করার জন্য ইতোমধ্যে সাড়ে পাঁচশ’ একর জমিতে কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটি স্থাপিত হলে এখানে গড়ে উঠবে বিমানবন্দর, মিনি নৌবন্দর, বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, অটোমোবাইলসহ ভারী শিল্প-কারখানা। স্থাপিত হবে ২০০টি কারখানা। খুলে যাবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত। সৃষ্টি হবে সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থান।

প্রাথমিক পর্যায়ে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। নতুন জেগে ওঠা চর দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর পরিণত হতে চলেছে কর্মমুখর জনপদে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য  হাজী রহিম উল্যাহ বলেন, বাঁকা নদী সোজা করার কারণেই এখন সোনাগাজীর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে উঠেছে প্রায় সোনাগাজীর আয়তনের সমান আরও একটি চরাঞ্চল।

এর আগে ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা)  নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এলাকাটি পরিদর্শন করেন।

ফেনী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীর আমিরাবাদ ও সদর ইউনিয়নের ৬৯ নম্বর থাক খোয়াজের লামছি মৌজায় এক হাজার ৫৪৩ একর, ৭০ নম্বর চরখোয়াজের লামছি মৌজায় ১৮৮ দশমিক ৮৮ একর, ৯৪ নম্বর খোন্দকার মৌজায় এক হাজার ৯৬১ দশমিক ৯২ একর, ৯৪/১০৩ নম্বর দক্ষিণ চর খন্দকার মৌজায় এক হাজার ৫৭৯ একর, ৯৩ নম্বর বাহিরচর মৌজায় ৬২৮ দশমিক ৯৯ একর, ২৩২ নম্বর চর রামনারায়ণ মৌজায় এক হাজার ৩১৮ একর ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৫০ দশমিক ৫৬ একর জমি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে সাড়ে পাঁচশ’ একরে চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ।

ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান জানান, যেসব চরে এখনো জরিপ হয়নি, সেগুলো পর্চা ম্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিপ হওয়া জমির মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকাটি মূলত সাগর থেকে জেগে ওঠা চর। চরের যেসব এলাকা এখনো জরিপ হয়নি সেগুলো পর্চা ম্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব জমি জরিপ হয়ে গেছে সেগুলোতে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ভূমি উন্নয়নের কাজ হচ্ছে সাড়ে পাঁচশ’ একর জমিতে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা জানান, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোয়ার হোসেন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থান চরচান্দিয়ার পূর্ব বড়ধলী পরিদর্শন করেছেন। বায়ু ও সৌর বিদ্যুতের জন্য প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সোনাপুর থেকে সোনাগাজী হয়ে জোরারগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

এতে ২৪৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply