বাবার মতো করুণ পরিণতি শিহাবের

২৮০    0

shihab uddin
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক ১৯৯১ সালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে ২০ দিন চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করেন। লাশের ময়নাতদন্ত হলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই ঘটনায় তখনো মামলা হয়নি। দুই যুগ পর তারই ছেলে শিহাব উদ্দিন মারা যাওয়ার পাঁচদিন পরেও অজানা আতংকে মামলা হয়নি। বড় ভাই নূর নবী ছিদ্দিকিও সন্ত্রাসীদের ভয়ে মামলা করতে সাহস করছেন না। তাদের পরিবারে বয়োবৃদ্ধ মা ছাড়া কেউ নেই। নূর নবী ছিদ্দিকি নোয়াখালীতে একটি বীমা কোম্পানীতে কর্মরত থাকায় স্বপরিবারে সেখানে বসবাস করেন। বাবার মতো ছেলের হত্যাকান্ডের ঘটনাও কালের পরিক্রমায় ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আংশকা এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী সূত্র আরো জানায়, শিহাব উদ্দিন মেলাঘর থেকে ভোলা নামের এক চালকের সিএনজি অটোরিক্সা যোগে পরশুরাম বাজারে আসেন। পরে পরশুরাম বাজার থেকে আরো চার যাত্রী শিহাব সহ ফেনী আসে। মৃত্যুও খবর শুনে বিকাল ৩ টার দিকে তার ভগ্নিপতি সমির সদর হাসপাতালে আসার সময় প্রথম স্ত্রী ফোন করে জিজ্ঞাসা করে আপনার শ্যালকের কি খবর। দীর্ঘদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রথম স্ত্রীর এ ফোনটিকে রহস্যজনক মনে করছে স্বজনরা।
শিহাব উদ্দিনের সহকর্মীরা জানায়, নিয়োগের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে ছয় বছর যাবত সুনামের সহিত শিক্ষকতা করে আসছেন তিনি। তার পিতা আবু বক্কর ছিদ্দিক ১৯৮৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। শিহাবের পরিবার ও এলাকাবাসী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত; গত বুধবার বাড়ি থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন মহেষপুষ্করনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী। ঘটনার ৫ ঘন্টা পর ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে লাশের সন্ধান মিলে।

Leave A Reply