ফেনী সংবাদ
   বিকাল ৩:২৫;    সোমবার,    ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং;   ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ফেনী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ভাঙ্গনে ছোট হয়ে আসছে ছাগলনাইয়ার মানচিত্র

৫৬৪    0

গত কয়েক বছরের ফেনী নদীর ভাঙ্গন বেড়েই চলছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়পুর, জগন্নাথ সোনাপুর, উত্তর লাঙ্গলমোডা, দক্ষিণ লাঙ্গলমোড়া ও মুহুরীগঞ্জ এলাকার শত শত পরিবার হারিয়েছে তাদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল। তাদের ঘর বাড়ী, ফসলী জমি, টিউবওয়ের, পুকুর, নদী রক্ষা বাঁধ কোন কিছুই এই ভয়াবহ এই ভাঙ্গনের কবল থেকে রেবাই পায়নি। যে কারণে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে নদীর পাড়ের জনবসতির মানচিত্র।

News-pictuireeee-e1466325599670

এদিকে ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দ না থাকায় এই মুহুর্তে সব স্থান সংস্কার করতে পারছেনা বলে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কার না করলে যে কোন সময়ে বেঁড়িবাধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে এলাকা প্লাবিত হলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই এই ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী নদীর ছাগলনাইয়া অংশে বিশাল এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

গত ৫বছরে শত শত পরিবার তাদের ভিটেমাটি, সহায়-সম্ভল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অনেক কৃষক হারিয়েছেন তাদের ফসলী জমি। ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এলাকাবাসীকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা  করতে সাড়ে ৮কিলোমিটার দীর্ঘ মিঁজান বাঁধ নামে একটি বেঁড়িবাধ নিমার্ণ করে কিন্তু নদীর ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে ওইবাঁধেরই প্রায় ১কিঃমিঃ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবার মিজান বাঁধের উপরে বসতি স্থাপন করে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। আবার অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মোকছেদ আলম জানান, ৫বছর আগেও নদীটি অবস্থান প্রায় অর্ধ কিঃমিঃ পূর্ব দিকে ছিল এখন ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে পশ্চিম দিকে চলে এসেছে। ফলে ছাগলনাইয়ার মানচিত্র ছোট হয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাই অঞ্চল বিস্তীর্ণ হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়পুর, জগন্নাথ সোনাপুর, উত্তর লাঙ্গলমোড়া, দক্ষিণ লাঙ্গলমোড়া ও মুহুরীগঞ্জ এলাকায় নদীতে ১০-১৫টি ট্রলারে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

এলাকার প্রভাবশালী ব্যঁক্তিরা এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা কিছু বলার সাহস পায় না। ড্রেজার ও ট্রলারের কর্মীরা জানান, বালু মহলের মালিকরা এখানে থাকেন না। ট্রলার ও ড্রেজারগুলো ভাড়া নিয়ে তারা এখানে বালু উত্তোলন করেন। মালিকের নির্দেশমত তারা কাজ করেন। এই সব এলাকার বাসিন্দারা ভিটে মাটি ও ফসলী জমি রক্ষায় সরকারীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ না থাকায় বেঁড়িবাঁধটি মেরামত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফেনী পানি উন্নায়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

Leave A Reply