ফেনীতে অধিকার এর মানববন্ধন

৩৭২    0

SHAFBD_1466929452

ফেনীতে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র আয়োজনে রোববার সকালে শহরের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় মানবাধিকার সুরক্ষায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার’র ফেনী জেলা ফোকাল পার্সন ও মানবাধিকার সংগঠক সাংবাদিক নাজমুল হক শামীম।

নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসের মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক হর্কাস’র সম্পাদক নুরুল করিম মজুমদার, দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবু তাহের, দৈনিক নয়াদিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক ফেনীর সময়’র সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, দৈনিক অবজারভার’র ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক বর্ণমালা সম্পাদক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূইয়া, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার, নজরুল একাডেমীর সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহম্মেদ তিতু, এনজিও আরবান ইউথ সোসাইটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী আরমান, ফেনী রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের যুব প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম রবিন, অধিকার’র হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার তন্নী সোম, ফেনী থিয়েটার’র দিদার উল্যাহ মজুমজার প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটোজানালিষ্ট এসোসিয়েশন ফেনী জেলা শাখার সভাপাতি মোস্তফা কামাল বুলবুল, দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহ জালাল ভূঞা, গাজি টিভির জেলা প্রতিনিধি নজির আহম্মেদ রতন, চ্যানেল নাইন’র জেলা প্রতিনিধি জহিরুল হক মিলন, সাপ্তাহিক ফেনী বার্তার স্টাফ রিপোর্টার এমরান পাটোয়ারী, আবৃত্তি সংসদ ফেনী’র সৈয়দ আশ্রাফুল হক আরমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে অধিকার’র হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘আমরাই আগামী’, সোসাল কালচারাল এন্ড এনভারমেন্ট (সী) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যা স্বতস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অধিকার’র সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত অন্ততঃপক্ষে ১০১ জন মানুষ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে নির্যাতনের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে নির্যাতন বন্ধে ‘অধিকার’ আটটি সুপারিশ পেশ করেছে। সুপারিশ গুলো হলো;- (১) বাংলাদেশের সংবিধান এবং নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে নির্যাতন বন্ধের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা মানতে হবে। (২) মানবাধিকার পরিস্থিতির উনড়বয়ন এবং নির্যাতন বন্ধে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও পৃথক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। (৩) অবিলম্বে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ বাস্তবায়নসহ সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। (৪) নির্যাতনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বহাল দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। (৫) নির্যাতনের লক্ষ্যে বিদেশ থেকে বিভিন্ন বড় ধরনের সরঞ্জামাদী আমদানি করা বন্ধ করতে হবে। (৬) বিচারিক প্রμিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। (৭) ২০০৩ সালে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় দেয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। (৮) নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের কর্মকান্ডে কোনভাবেই বাধা দেয়া চলবে না।

Leave A Reply