পরশুরামে পরিবার পরিকল্পনার সেবা থেকে বঞ্ছিত এলাকাবাসী

৪৬৩    0

পরশুরাম উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছ থেকে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন না বলে বেশীরভাগ এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। ২/৩ মাস পরও পরিবার পরিকল্পনার কোন কর্মীকে বাড়ীতে পাওয়া যায়না। কারো প্রয়োজন হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অথবা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গিয়ে অনেক প্রতিক্ষার পর সাক্ষাত করে সহযোগিতা নিতে হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী উপজেলার প্রতিটি থানায় উপস্থিত হয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার না থাকা, উপ-সহকারী সিনিয়ার ভিজিটর, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী না থাকা এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারীদের দায়িত্বে অবহলো কারনে উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার খানা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন।

পরশুরাম উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন বিষয় দম্পতিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্বতী গ্রহনে উদ্বুদ্ধকরন, জন্মনিয়ন্ত্রন সম্পর্কে নববিবাহিতদের অবহিত করা, বিবাহিত দম্পতিদের মাঝে খাবার বড়ি, কনডম বিতরন সহ জন্মনিয়ন্ত্রন সম্পর্কিকত বিভিন্ন বিষয় সচেতন করার কথা রয়েছে। অথচ পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া, মির্জানগর, বক্সমাহমুদ এবং পৌর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কোন কর্মীদের গ্রামে দেখা যায়না এবং কোন পরিবারের দম্পতিদের সাথে পরিদর্শিকাদের কথা বলার কোন প্রমানও মিলেনা। খাবার বড়ি ও কনডম বিতরন করা হয়না বলে অনেকের অভিযোগ। শিশু পরিচর্যা, গর্ভবতী নারীদের গর্ভকালীন সময়ের স্বাস্ব্য সেবা দেয়া হয়না। এছাড়াও পরিকল্পনা কেন্দ্রে গর্ভবর্তী নারীদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের কথা থাকলেও পরশুরাম উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কোথাও এই ধরনের সেবা দেয়া হয়না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা চিথলিয়ায় গর্ভবর্তী নারীদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের কার্যক্রম চালু করা হলেও বাস্তবক্ষেত্রে জনবল না থাকায় এবং পরিদর্শিকাদের দায়িত্বে অবহেলার কারনে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পরিদর্শিকারা সহযোগিতা না করে ডেলিভারী রোগীদের ফেনীর বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা-৫ জন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পুরুষ-৪ জন এবং পরিবার কল্যান সহকারী-২০ জন কর্মরত থাকলেও কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে এবং দায়িত্ব অবহেলা কারনে পরিদর্শিকারা মাঠে না গিয়ে অনেক সময় অফিস কিংবা বাসা বাড়ীতে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

বুধবার সরেজমিন পরশুরাম হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন অফিসে নেই। কয়েকজন জানান, তিনি বেশীরভাগ সময় অফিসে থাকেন না মোবাইল ফোনে কাজ সারান। অপরদিকে পৌর এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত মুন্নি সহ একাধিক পুরুষ ও মহিলা মাঠকর্মীকে অফিস কক্ষে বসে গল্প করতে দেখা গেছে।

চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, একসময় দেখা যেত পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতো। গর্ভবর্তী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হত। কিন্তু এখন বাড়ীতে বাড়ীতে যেতে দেখা যায়না বরং রোগীদের কে হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে হয়। তিনি জানান, রোগীরাও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রাইভেট ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন।

এদিকে উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মাসের মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় রোগীরা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা এবং ওষধ পাচ্ছেননা। মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর কমিউনিটি ক্লিনিকটি গত ৫/৬ মাসেও খোলা হয়নি বলে একাধিক স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে পরশুরাম উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেন ফেনীর সময় কে জানান, নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা ও সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে অনিয়মের কথা শোনা যায়।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিব উল করিম ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

Leave A Reply