জমে উঠেছে দর্শকশূন্য প্রেক্ষাগৃহ

৭৩২    0

Cinema-Bg20160713025902

অন্য সময় যে সিনেমা হলগুলো থাকে দর্শকশূন্য, প্রাণহীন। ঈদকে কেন্দ্র করে সেগুলো এখন লোকে লোকরণ্য হয়ে উঠেছে। যেন তিল ধারনের যায়গা নেই। ছবি ভাল কি মন্দ তা বিচার করার সময় নেই কারো, ঈদ উদযাপন করতেই দর্শকরা আসছেন সিনেমা হলে।

সোমবার (১১ জুলাই) বিকেলে শহরে কানন সিনেমা হলের সামনে গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। ওই হলে চলছে পারভেজ চৌধুরী প্রযোজিত সাকিব খান অভিনীত ‘রানা পাগলা দ্যা মেন্টাল’ ছবিটি।

হলে আগত কামরুল হাসান নামের এক যুবক বলেন, দর্শকদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ‘মেন্টাল’। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘মেন্টাল’ ছবিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, তিশা, আঁচল, পড়শি, ডন, শিবা সানু, শিমুল খান, মিশা সওদাগর প্রমুখ।

সিনেমা হলটির ব্যবস্থাপক আরজু মিয়া বলেন, পুরো বছর আমাদের  লোকসান গুণতে হয়। এবারের ঈদে হলে প্রচুর দর্শকের সমাগম হয়েছে। প্রতি শোতে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ লোক সিনেমো দেখছেন। এভাবে সারা বছর সিনেমা হলে লোক সমাগম থাকলে ভালভাবে ব্যবসা করে টিকে থাকা সম্ভব হতো।

স্টেশন রোডের দুলাল সিনেমা হলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে একই নায়ক অভিনীত ছবি ‘সম্রাট’।

হলের ব্যবস্থাপক ওলি উল্লাহ দুলাল বলেন, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ছবিটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। এ ছবিটিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এতে আরো অভিনয় করেছেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অপু বিশ্বাস, মিশা সওদাগর প্রমুখ। ছবিটি দেখতে হলে প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, বছরের একটি সময় হলে দর্শক আসে, বাকি সময় আমাদের বসে বসে মশা মারতে হয়, গুণতে হয় লোকসান। ঈদ মৌসুমে হল পরিপূর্ণ থাকলেও অন্য সময় খালি থাকে। প্রকৃতপক্ষে এ শিল্পের দুর্দিন যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, একটা সময় ছিল যখন সিনেমা হলগুলোতে তিল ধারনের জায়গা থাকতো না। সেসময় চলচ্চিত্র বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল তাই স্বভাবতই সিনেমা হলে দর্শক চাহিদাও থাকত প্রচুর। সেসময় প্রতি শোতে দুইশ’র ওপরে দর্শক থাকত, সারা মাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হত। আর এতে পেট চলতো অর্ধশতাধিক কর্মচারীর।

আর এখন এই হলগুলো ঈদ মৌসুম ছাড়া একেবারে দর্শক শূন্য থাকে। ছয়টি সিনেমা হলের মধ্যে লোকসানে বন্ধ হয়েছে চারটি। বাকি যে দু’টি এখোনো টিকে রয়েছে তার অবস্থাও নাজুক।

এখন ঈদ ছাড়া সারা মাসে ৮-১০ হাজার টাকাও আয় করা সম্ভব হয় না, কর্মচারী ও যাবতীয় খরচ মেটানোর পর লাভ তো দূরের কথা, উল্টো লোকসান গুণতে হয়। এ ব্যবসায় টিকে থাকাই যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হলে আগত দর্শকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, ভালো ছবি তৈরি হলে এখোনো দর্শকরা হলে এসে ছবি দেখবে, শুধু ঈদে নয়- সারা বছরই মুখরিত থাকবে হলগুলো।

Leave A Reply