ছাপরা ও পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান

২৫৫    0

উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়টির অবস্থান। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলে ভাঙা বেড়ার একটি ছোট্ট ছাপরায়। কিন্তু সেখানে স্থানসংকুলান না হওয়ায় প্রাক-প্রাথমিকসহ অপর একটি শ্রেণির পাঠদান করা হয় বিদ্যালয়ের ছয় বছর আগে পরিত্যক্ত একটি ভবনে। শিক্ষকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে পাশের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে। বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রমও চলে সেখানে।

এই চিত্র ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজিলিশপুর ইউনিয়নের চান্দলা ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, গ্রামের বিদ্যোৎসাহী আবুল কাশেমসহ ছয় ব্যক্তি ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়ের জন্য ৬২ শতক জমি দান করেন। তখন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর পরই এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তিনি জানান, ভবনের পিলার ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনেও শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। গত ছয় বছরে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

sonagazi school

২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৫।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফি উল্যাহ বলেন, বিদ্যালয় ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের কিছুটা দূরে হলেও পাশের বিদ্যালয় অথবা মাদ্রাসায় নিয়ে যেতে চান। শিক্ষকেরা নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া বিদ্যালয়ে আসবাবেরও সংকট আছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০১৩ সালে চাঁদা তুলে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৩ ফুট প্রস্থের একটি ছাপরা নির্মাণ করা হয়। ওই ছাপরায় শিক্ষার্থীদেরও স্থানসংকুলান হয় না। তখন শিক্ষকদের জন্য পাশে দোকানঘরের একটি ছোট কক্ষ ভাড়া নেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ চালানো হয়। গত পাঁচ-ছয় বছরে অর্ধেক শিক্ষার্থী আশপাশের স্কুল ও মাদ্রাসায় চলে গেছে। নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের বেশি দিন ধরে রাখা যাবে না।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাওছার আহম্মদ, চতুর্থ শ্রেণির ময়না বিবি ও তৃতীয় শ্রেণির জান্নাতুল মাওয়া বলল, একটু জোরে বৃষ্টি হলে ছাপরায় পানি ঢোকে। বই-খাতা ভিজে যায়। সেখানে গাদাগাদি করে বসতে কষ্ট হয়। এখন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে না।

চর মজিলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম তকি বলেন, বিদ্যালয়টির দুরবস্থার কথা উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির একাধিক সভায় তুলে ধরা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুর নবী বলেন, বিদ্যালয় ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর মতো অবস্থা নেই। একটি ছোট দোচালা ছাপরায় শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি হলে সেখানে ক্লাস নেওয়া যায় না।

সোনাগাজী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোস্তফা মিনহাজ বলেন, তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নাজুক পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

Leave A Reply