এ কোথায় থাকেন ফেনী সকার এর ফুটবলাররা!

৪৭৬    0

60758029f35b52cc6697427bb22e53e0-Fenni_01--8-

দুপুরের পর থেকেই সূর্যটা হেলে পড়তে শুরু করে। সরাসরি সূর্যের আলো ঢোকে কমলাপুর স্টেডিয়ামের তিনতলার কক্ষগুলোতে। জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরমে কক্ষগুলো এমনিতেই তেতে থাকে। সিলিং ফ্যানের বাতাসও তখন যথেষ্ট মনে হয় না। জানালায় টাঙানো ছেঁড়া বিছানার চাদর দিয়ে বানানো পর্দাটা বলছে দৈন্যর এখানেই শেষ নয়।

নোংরা মশারি, পুরোনো রংচটা লোহার রডের খাট, ছেঁড়া তোশকে ছারপোকার নিত্য আসা–যাওয়া। খাটের নিচে প্লাস্টিকের বয়ামে মুড়ি, একপাশে অযত্নে রাখা এক জোড়া বুট। কক্ষের মধ্যে এলোমেলো করে টাঙানো জার্সি ও ভেজা কাপড়চোপড়। হঠাৎ করে কমলাপুর স্টেডিয়ামের কক্ষগুলোতে ঢুকলে মনে হবে যেন ঘিঞ্জি বস্তির কোনো মেসবাড়ি! কিন্তু এটাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দল ফেনী সকারের স্থায়ী অনুশীলন ক্যাম্প।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের সেরা দলগুলোর একটি ফেনী সকার। প্রিমিয়ার লিগে খেলা শুরু ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে। টানা ছয় মৌসুম পেশাদার লিগে খেললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলতে পারেননি কর্মকর্তারা। ফেনী স্টেডিয়ামে যখন হোম ভেন্যু হিসেবে খেলতেন ফুটবলাররা, তখন বিদেশিদের জন্য আলাদা অ্যাপার্টমেন্ট নেওয়া হতো জেলায়। কিন্তু স্থানীয়দের সাধারণ মানের হোটেলে রেখেই চলত অনুশীলন।

ঢাকায় তো সেই হোটেলের ব্যবস্থাটুকুও করেননি কর্মকর্তারা। অথচ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ঢাকার বাইরের আরেকটি দল চট্টগ্রাম আবাহনী রাজধানীর একটি হোটেলে রেখেছে ফুটবলারদের। আবাসন ও খাওয়াদাওয়া নিয়ে কোনো অভিযোগই নেই কারোর।
কমলাপুর স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যাপারে সবচেয়ে বড় আপত্তি রাতে। পাশেই হাইওয়ে। সমানে ট্রাক-বাসের হর্ন বাজতেই থাকে। শব্দদূষণে কান পাতা দায়। আক্ষেপ করে ফেনী সকারের ডিফেন্ডার রমজান আলী বলছিলেন, ‘এখানে থাকার বড় সমস্যা এটাই। আমাদের এমনও রাত কেটেছে, একদম না ঘুমিয়ে।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) নামকা ওয়াস্তে সামান্য অঙ্কের টাকা দিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামকেই বাড়িঘর বানিয়ে ফেলেছে ফেনী সকার। মৌসুমে প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের আগে মাত্র ২৪ দিন অনুশীলন করেছে দলটি। আর সর্বশেষ ফেডারেশন কাপের আগে হয়েছে ১০ দিনের অনুশীলন। ১৪ জুন আবাহনীর কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে ফেনী সকার। পরদিনই খেলোয়াড়দের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কবে ক্যাম্প শুরু হবে, সেটা কেউই জানেন না। অথচ নামেই পেশাদার লিগের দল ফেনী সকার!

এবারের ক্যাম্প শুরুর প্রথম দুই দিন নাকি স্টেডিয়ামের পাম্পের পানি না ফুটিয়েই খাইয়ে থাকতে হয়েছিল ফুটবলারদের। পরে দেওয়া হয় ফিল্টারের পানি।

ফেনীর বিদেশি ফুটবলাররা কমলাপুরে থাকতে আগ্রহী নন। দলের সঙ্গে বেশির ভাগ সময় অনুশীলনও করেন না। শুধু ম্যাচের দিন এসে খেলেই দায়িত্ব শেষ। যেন খ্যাপের খেলোয়াড়!

পেশাদার দলের সুযোগ-সুবিধা যে আরও মানসম্মত হওয়া উচিত, তা মানছেন ফেনী সকারের ম্যানেজার সাখাওয়াৎ হোসেন শাহীনও, ‘এটা সত্যি, গত কয়েক বছর আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। এবার বিছানা, তোশক ও অন্যান্য অনেক কিছু বদলে দিয়েছি। বাথরুম-টয়লেট সংস্কার করা হয়েছে। চেষ্টা করেছি আগের চেয়ে খেলোয়াড়দের আরও উন্নত আবাসন সুবিধা দিতে। ফুটবলারদের মোটামুটি ৯৯ ভাগ চাওয়াটা পূরণ করার চেষ্টা করেছি।’

অনেকে আক্ষেপ করে বলেন ফেনী সকারের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ফুটবল ফেডারেশনের সর্বশেষ নির্বাচনেও অঢেল টাকা ঢেলেছেন। বাফুফের বর্তমান সহসভাপতি তাবিথই শুধু নন, বাফুফের বিভিন্ন পদে জেতার জন্য আরও অনেক কর্মকর্তাই এভাবে টাকা ওড়ান। কিন্তু এতে লাভ হয় শুধু কাউন্সিলরদেরই। প্রিমিয়ার লিগে খেলা বেশির ভাগ ফুটবলারদেরই ভাগ্য বদলায় না।

দেখলে চমকে উঠবেন, এ কোথায় থাকেন তাঁরা!

 

সুত্র:প্রথম আলো।

Leave A Reply